Showing posts with label ইসলাম ডেস্ক. Show all posts
Showing posts with label ইসলাম ডেস্ক. Show all posts

Bangla Translation of Quran সত্যের পথে আহবান



আল্লার নাম নিয়ে পবিত্র কুরান শরীফ নিয়ে আমার প্রথম পোস্ট শুরু করছি । আজ আপনাদের একটি দারুন সফটওয়্যার উপহার দিব , যেখানে আপনি পাবেন ১১৪ টি সুরা এবং তার মানে । তো চলুন দেখি , ও সফটওয়ার টির নাম আমি আগেই শিরোনাম এ বলে ছি । সফটওয়্যার টি আমার খুব ভাল লেগেছে , আশাকরি আপনাদের ও ভাল লাগবে ।

* পবিত্র কুরান শরীফ টি ডাউনলোড করতে BanglaQuran ক্লিক করুন । তারপর আর পাঁচ টি সফটওয়্যার এর মত এটাকে ইন্সটল করুন । এবার নিচে দেখুন >

* এই ভাবে ব্যবহার করুন >  নীচের চিত্রে দেখুন >



[বি.দ্রঃ পূর্বে প্রকাশিত হলে ক্ষমা করবেন]

* আমি আশাকরি আমার সকল ভাই এবং বোন এরা এই পবিত্র কুরান টা ডাউনলোড করবেন এবং পড়বেন । আজকের মত এই পর্যন্ত 

ইসলামে নিষিদ্ধ চারটি সেক্সুয়াল বিহেভিয়ার




ইদানীং নারী পুরুষের বিবাহিত সেক্সুয়াল লাইফ এ কিছু কিছু সমস্যা প্রকট আকারে সামনে চলে এসেছে ।বিবাহিত জীবন গড়াচ্ছে ডিভোর্স পর্যন্ত ।অস্বাভাবিক সেক্সুয়াল লাইফের বলি হিসেবে মহিলারা মারাত্মক স্বাস্থ্য সমস্যা পি , আই , ডিতে ভুগছেন । মেডিকেল ট্রিটমেন্ট ফেইলুরের পর সার্জারি করেও শেষ রক্ষা হয়না । ব্যথা ময় এক জীবন বয়ে বেড়ান ।
পুরুষ নারী নির্বিশেষে যৌন বাহিত অসুখবিসুখ তো আছেই ।
আর মনের উপর যে ভয়াবহ চাপ পড়ে মেন্টাল ট্রমা তৈরি হয় সে প্রসঙ্গ নাই বা বললাম , মনের ব্যাপারটাতো চির উপেক্ষিত আমাদের সমাজে ।
কথা হল , একজন কনজারভেটিভ আর নতুন প্র্যাকটিসিং মুসলিম সর্বোপরি একজন ডাক্তার হিসেবে সমস্যাগুলো দেখে , রবি গুরুর ব্রজেশ্বরের মত জঞ্জাল দেখে পাশ কাটিয়ে চলে যাব , নাকি সুকান্তের মত , “ প্রাণ পণে সরাব জঞ্জাল “ ?!? :|
আসলে সময় এসেছে কিছু কিছু ব্যাপারে শালীনতার মধ্য থেকেই আলোচনা করার । কারণ আমরা অনেক কিছুই জানিনা । আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা এমন, দীর্ঘ ১২ বছর পড়াশুনা করে এইছ , এস , সি পাশ দিলেও কেউ না পারে ইহকালে রুটি রোজগারের ব্যবস্থা করতে , আর না হয় তার নৈতিক জ্ঞান ,যা দিয়ে সে বাকি জীবন সঠিক ভাবে চলার দিক নির্দেশনা পাবে । মাছি মারা কেরানী ছাড়া আর কিছুই হতে পারিনা আমরা । পরবর্তী উচ্চশিক্ষায় ও নৈতিক বিষয়টি কোন স্থান পায়না । তাই আমাদের জ্ঞানের অভাব আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার দৈন্যতার উপরেই বর্তায় ।
তবুও একটি আশাবাদী কথা দিয়েই শুরু করি । আপনি কি জানেন ? মুসলিমদের সেক্সুয়াল লাইফকে মেডিকেলে খুবই এপ্রিশিয়েট করা হয় । গাইনি মেডিকেল বই এ মুসলিম সেক্সুয়াল বিহেভিয়ারের প্রশংসা করে লেখা থাকে , “মুসলিম ছেলেদের সারকামসেশন ( মুসলমানি ) করা থাকে তাই তাদের স্ত্রীর অমুক অসুখ কম হয় । অথবা সেক্সুয়াল ইন্টারকোর্স এ মুসলিম রা অমুক নিয়মটি ফলো করে তাই তাদের অমুক অসুখটি কম হয় । “
“ মুসলিমদের কি সেক্সের আলাদা নিয়ম আছে ?!? “ ঝট করে প্রশ্নটি মনে জাগে ।
আমার পরম শ্রদ্ধেয় সার্জারির প্রফেসরের উক্তি মনে পড়ে গেলো । সদা হাস্যময়ী স্যার বলেছিলেন , “ Breast feeding (নবজাতকের মায়ের দুধ পান করা ) & Sexual intercourse ( সেক্স করা) reflexly মানুষ শিখে যায় , এটা কাউকে শিখাতে হয় না । “
এখানেই কথা আছে কিন্তু। রিফলেক্সলি ঠিক জিনিসটি শিখার আগেই প্রযুক্তির অকল্যাণে বিধ্বংসী কিছু পারভার্সন ঢুকে গেছে স্বাভাবিক যৌন জীবনে ।
কিভাবে ? ইন্ডিয়ার কিছু চটি সাইট আছে ওগুলোর মূল ভিজিটর বাংলাদেশি । আর ইন্ডিয়ান ভিজিটর বাংলাদেশের ভিজিটরের অর্ধেকের ও কম । আর অনলাইন সংবাদ মাধ্যম গুলোর মূল ভিজিটর আসে অশালীন রগরগে সংবাদগুলো থেকে ।তারা দেশে এরকম সংবাদ না পেলে বিদেশ থেকে সংবাদ আমদানি করে । লক্ষ্যকরে থাকবেন এই রোজার মাসেও ভিজিটরের লোভে সানি লিওনের সংবাদ পরিবেশন থেকে বিরত হয়নি । মোবাইলে মোবাইলে অশালীন ভিডিও সহজে কিনতেও পাওয়া যায় যারা নেট ইউজ করেনা তাদের সুবিধার জন্য ।
তাহলে বুঝাই যায় মুসলিম প্রধান দেশ হওয়া স্বর্তেও পর্ণোগ্রাফী বাংলাদেশে দারুণ জনপ্রিয় । আর পর্ণো পড়ার সময় বা দেখার সময় আমাদের কয়জনের মনে থাকে ,এগুলি কিন্তু গুনাহ । চোখের ব্যভিচার ।
এই সহজলভ্য পর্ণো আর চটিসাইট গুলো মানুষের স্বাভাবিক যৌন জীবন কে অস্বাভাবিকতা দিয়ে রিপ্লেস করে দিয়েছে । সংসার জীবনে নেমে এসেছে অশান্তি ।
“ ভালবেসে স্ত্রীর দিকে তাকালেও সোয়াব “ এই সব হাদিস উঠে গিয়ে এসেছে , “ LOVE করে আর লাভ নেই রে পাগলা ।“
মানুষ সেক্সুয়াল লাইফ নিয়ে পুরোই বেদিশা । তারা শুধু ছুটছে । “ কই আমিতো পর্ণো ছবির পুরুষ বা মহিলাটির মত আনন্দে আত্মহারা হলাম না ।হয়ত আমার ওয়াইফ বা হাসবেন্ড ঠিক পারছেনা । কোথায় ? কোথায় আছে সেই সোনার হরিণ । কোথায় সেই আনন্দের ফোয়ারা ? সবাই পায় , আমি পাই না কেন ? “
বিবাহ বহির্ভূত সেক্স , হোমোসেক্সুয়ালিটি , এনাল সেক্স মহামারির মত ছড়িয়ে গেছে ।
দুনিয়াতে এত মজা নিলে আখেরাত কিন্তু অন্ধকার । আজ আমরা জানবো ইসলামে সেক্সুয়াল বিহেভিয়ার এ ৪ টি নিষিদ্ধ ক্ষেত্র ।
Extramerital sex
Sexual intercourse during menstruation and Puerperium
Homosexuality
Anal Sex
# Extramerital sex 
বিবাহ বহির্ভূত সেক্স – এর কারণে সিফিলিস , গনোরিয়া , ক্ল্যামাইডিয়া , মোনিলিয়াসিস , ট্রাইকোমোনিয়াসিস , ব্যাকটেরিয়াল ভেজাইনোসিস , জেনিটাল হার্পিস , জেনিটাল ওয়ার্টস প্রভৃতি সমস্যা আর তাদের কমপ্লিকেশন তো আছেই । সারভাইক্যাল ক্যন্সার ( জরায়ু মুখের ক্যান্সার ) যার মূল কারণ হিউমেন প্যাপিলোমা ভাইরাস তাও ট্রান্সমিট হয় । আর ঘাতক ব্যাধি এইডস তো আছেই ।
আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা করেন , “ তোমরা ব্যভিচারের নিকটেও যেওনা , কারণ এটি অশ্লীল ও মন্দ পথ ।‘ ( সূরা বনী ইসরাইল , ৩২)
# যে মুহাররামাত মহিলার সাথে যিনা করবে তার হুকুম ঃ
যে ব্যক্তি কোন মুহররামাত ( যাদেরকে বিবাহ করা হারাম ) যেমন – আপন ,বোন , কন্যা ও বাবার স্ত্রী ইত্যাদি এর সাথে হারাম জানা স্বর্তেও যিনা করবে তাকে হত্যা করা ফরজ ।
বারা ইবনে আজেব (রা ) হতে বর্ণিত , তিনি বলেন , “ আমার চাচাকে ঝান্ডা উড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছে দেখে বললাম ঃ কোথায় চলেছেন ? তিনি বললেন- আমাকে রাসুল করিম ( সাঃ ) প্রেরণ করেছেন ঐ মানুষের নিকট যে তার বাবার স্ত্রীকে বিবাহ করেছে । তিনি ( সাঃ ) আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন তার গর্দান উড়িয়ে দেয়ার জন্য এবং সমস্ত সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার জন্য । ( সহীহ হাদিস , তিরমিজি হাদিস নং ১৩৬২ , নাসাঈ হাদিস নং ৩৩৩২ ) ।
তাহলে ইনচেস্ট ( Incest ) ভর্তি পর্নো চটি সাইট গুলো আমাদের নিজেদের ঐতিহ্য বাহী মূল্যবোধ সম্পন্ন সম্পর্ক গুলোকে কোথায় নিয়ে চলেছে ?
# Homosexuality ( সমকামিতা ) 
লূত (আঃ ) এর সময়ের আগে পৃথিবীতে হোমোসেক্সুয়ালিটি ছিলনা । সমকামিতা চরিত্র আর স্বভাব বিধ্বংসী এক জঘন্যতম অপরাধ ইসলামের দৃষ্টিতে । লূত ( আঃ ) এর জাতি এ অপকর্ম করার জন্য আল্লাহ তায়ালা তাদেরকে মাটিতে ধ্বসিয়ে দিয়েছেন । তাদের উপর পাথর বৃষ্টি নিক্ষেপ করেছেন । এ ছাড়া শেষ বিচারের দিনেও তাদের জন্য আছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি ।
আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন , “ এবং আমি লূতকে পাঠিয়েছি । যখন সে নিজ জাতিকে বলল- তোমরা কি এমন অশ্লীল কাজ করছ , যা তোমাদের পূর্বে গোটা বিশ্বের কেউ করেনি ? তোমরাতো কামবশতঃ পুরুষের নিকট গমন কর মহিলাদের ছেড়ে । এবং তোমরা সীমা অতিক্রম করেছো । [ সূরা আরাফ ৮০-৮৪ ]
আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা করেন- “ অবশেষে যখন আমার আদেশ পৌঁছল , আমি উক্ত জনপদকে উপুড় করে নীচ করে দিলাম এবং তার উপর স্তরে স্তরে কাঁকর পাথর বর্ষণ করলাম । যার প্রতিটি তোমার রবের কাছে চিহ্নিত ছিল । এবং পাপিষ্ঠ দের কাছ থেকে বেশি দূরেও নয় । “( সুরা হূদ ৮২-৮৩)
আর রাসুল ( সাঃ ) বলেন , “ তোমরা লূতের জাতির কর্ম অবস্থায় যাকে পাবে তার কর্তা এবং কর্ম উভয়কে হত্যা করবে । ( সহীহ হাদিস আবু দাউদ হাদিস নং ৪৪৬২ , তিরমিযী হাদিস নং ১৪৫৬)
হোমোসেক্সুয়ালিটি জন্মগত ভাবে আসে , হোমোদের এমন আজব কথা তাদের নিজেদের আবিষ্কার ।
# Anal sex 
Anus ( মলদ্বার ) অনেক রকম মাইক্রোওর্গানিজম দিয়ে পূর্ণ । আনহাইজিনিক সেক্সুয়াল ইন্টারকোর্সের কারণে ফিমেল পার্টনার ভয়াবহ রকমের পি, আই , ডি তে আক্রান্ত হয়ে যায় । এনাল ফিসার , পাইলস হবার ঝুঁকি বাড়ে । এনাল স্ফিংটার এর স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা নষ্ট হয় ।
হাদিসে আছে , “ যে ব্যক্তি তার স্ত্রীর সাথে এনাল সেক্স ( নিতম্বে সহবাস ) করবে আল্লাহ তার দিকে তাকাবেন না । “ ( নাসাঈ আল ইশ্রাহ ২/ ৭৭- ৭৮/১ ; তিরমিযী ১/২১৮ )
হাদিসে আরো আছে , “ যে ব্যক্তি স্ত্রীর সাথে নিতম্বে সহবাস করবে সে লা’নত প্রাপ্ত “ ( আবু দাউদ ২১৬২ , আহমদ ২/ ৪৪৪, ৪৭৯ )
# Sexual intercourse during menstruation and puerperium – ( পিরিয়ড চলাকালীন সময়ে আর সন্তান জন্মদানের পরবর্তী ৪০ ( ৪৫) দিনের মধ্যে সহবাস )
পিরিয়ড চলাকালীন সময়ে নরমাল ডিফেন্স মেকানিজম নষ্ট হয়ে যায় । মহিলাদের প্রজনন অঙ্গের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় । একই ঘটনা ঘটে সন্তান জন্মদানের পরবর্তী ৪০-৪৫ দিন । আর এসময়ের সেক্সুয়াল ইন্টারকোর্স প্রজনন অঙ্গ গুলোতে ভয়াবহ ইনফেকশন ঘটায় লোকাল অর্গানিজম ।
স্ত্রীর হায়ে্য ( পিরিয়ড ) চলাকালীন তার সাথে সহবাস করা স্বামীর জন্য হারাম । ( ফথুল কাদীর , ১/২০০ )
আল্লাহ তায়ালা বলেন , “ আর তারা তোমার নিকট হায়ে্য প্রসঙ্গে জিজ্ঞেস করে । তাহলে বলে দাও এটা অশুচি বা কষ্ট । কাজেই তোমরা হায়েয চলাকালীন সময় সহবাস থেকে বিরত থাক । তখন পর্যন্ত তাদের সাথে সহবাস করবেনা , যতক্ষণ না তারা পবিত্র হয়ে যায় । যখন তারা ভালোভাবে পবিত্র হয়ে যাবে , তখন তাদের নিকটে যাও যেভাবে আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছেন । নিশ্চয় আল্লাহ তওবাকারি কে ভালবাসেন এবং অপবিত্রতা থেকে যারা বেঁচে থাকে তাদেরও ভালবাসেন । ( সুরা আল বাকারাহ ২২২ )
এ প্রসঙ্গে রাসুল (সাঃ ) বলেন , ‘ যদি কোন ব্যক্তি হায়েযাহ নারীর সাথে বা তার নিতম্বে সহবাস ( এনাল সেক্স) করে , জ্যোতিষীর নিকট যায় আর জ্যোতিষীর কথা বিশ্বাস করে তাহলে সে মুহাম্মদ (সাঃ ) এর প্রতি যা নাযিল হয়েছে তার প্রতি কুফরি করল । “
তাহলে এই হল চারটি বিধি নিষেধ ।
উপসংহার হিসেবে কয়েকটি কথা বলি । জাতি হিসেবে আমরা হীন মন্যতায় ভোগা জাতি । নিজের দেশ ভাল লাগেনা । গরীব । নিজের ভাষা ভাল লাগেনা । টিভি , এফ,এম রেডিওতে বাংরেজি ভাষায় কি যে কথা বলি আমরা নিজেদেরই বুঝতে কষ্ট । নিজের সংস্কৃতি ভাল লাগেনা । সেদিন দেখলাম এক টিভি চ্যানেল নাম ৭১ , ফিমেল নিউজ প্রেজেন্টার শার্ট , কোর্ট পরে খবর পড়ছেন । এটা কি আমাদের নতুন সংযোজিত বাঙ্গালী সংস্কৃতি কিনা জানিনা । আমাদের নিজেদের ধর্ম ও ভাল লাগেনা । দু কলম পড়াশুনা করে অনেকেই নিজের ধর্মকে মৌলবাদী আখ্যা দিয়ে নামাজ , রোজাকে শিকেয় তুলে রেখেছেন । আমাদের ধর্ম বাস করে ঈদের বিপণী বিতানে , পোশাক কেনার মধ্যেই আমাদের ঈদ । কোরবানির সময় বড় ধার্মিকতার পরিচয় দিয়ে লাখ টাকার গরু , উট কুরবানি দিই নাকি জবাই দেই । শ্বশুর বাড়ি থেকে কি পশু পাঠাল কুরবানি দেয়ার জন্য তার হিসেব করি ।
এই অপসংস্কৃতি থেকে বের হয়ে এসে নিজের পরিচয় নিয়ে গর্ব করার মানুষিকতা তৈরি হোক আমাদের । জন্মসূত্রে পাওয়া মুসলিম পরিচয় কে শানিত করে প্র্যাক্টিসিং মুসলিম হয়ে উঠার তৌফিক আল্লাহ যেন আমাদের দেয় । ইসলামের আলোয় উদ্ভাসিত হয়ে বাংলাদেশি প্র্যাক্টিসিং মুসলিম হোক আমাদের পরিচয় ।
 লেখকঃ ডাঃ নার্গিস পারভীন প্রকাশিত লেখার দায়বদ্ধতা একান্তই লেখকের

জান্নাতের আকাংখী যেন পরিশ্রম করে



হযরত আবু হুরায়রা রা. বলেন : নবী করীম সা. ইরশাদ ফরমান, আমি জান্নাতের এমন কোন দৃষ্টান্ত দেখি নাই যার আকাংখী শুয়ে থাকে। আর না আমি জাহান্নামের এমন দৃষ্টান্ত দেখেছি যে উহা থেকে আত্মরক্ষাকারী শুয়ে আছে।
হযরত উমর রা. বলেন, জনাব নবী করীম সা. এরশাদ ফরমান, জান্নাতে সে ব্যক্তিই প্রবেশ করবে যে উহার আশা করে। [কানযুল উম্মাল]
জান্নাতে বিশ্বাস করা ফরজ

হযরত উমর ইবনে খাত্তাব রা. বলেন, একদা আমরা নবী করীম সা. এর দরবারে বসা ছিলাম এমন সময় এক ব্যক্তি উপস্থিত হয়ে আরজ করল ইয়া রাসূলাল্লাহ সা.! ঈমান কি জিনিস?
হুজুর সা. বললেন : আল্লাহর প্রতি, তার ফেরেস্তাগণের প্রতি, তার কিতাবসমূহের প্রতি, তার রাসূলগণের প্রতি, মৃত্যুর উপর, মৃত্যুর পর জীবিত হওয়ার উপর, হিসাব নিকাশের উপর, জান্নাতের উপর, দোযখের উপর, প্রতিটি ভাল মন্দের তাক্বদীরের উপর বিশ্বাস রাখা। [মুসলিম ১/৩৮]
জান্নাতীদের জান্নাত কামনা

জান্নাতের অধিকারী লোকেরা জান্নাত কামনায় তারা আল্লাহ পাকের কাছে এভাবে আবেদন করবেন, যেমন আল্লাহ পাক পবিত্র কুরআনে এরশাদ করেন: হে আমাদের পালনকর্তা আমদেরকে তা দাও যা তুমি ওয়াদা করেছো তোমার রসূলগণের মাধ্যমে এবং কিয়ামতের দিন তুমি আমাদিগকে অপমানিত করোনা নিশ্চই তুমি ওয়াদা খেলাফ করোনা। [ইমরান -১৯৪]
জান্নাত কামনাকারীর পুরুস্কার

হযরত আনাস ইবনে মালেক করবে।লেন, নবী করীম সা. এরশাদ করেন- যদি কোন মুসলমান আল্লাহ তাআলার নিকট তিনবার জান্নাতের আবেদন করে, জান্নাত তখন বলে, হে আল্লাহ ! তাকে জান্নাতে প্রবেশ করে দিন। আর যে ব্যাক্তি তিনবার জাহান্নাম থেকে মুক্তি চায় জাহান্নাম তখন বলে, হে আল্লাহ তাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিন। [তিরমিযী হা.২৫৭২, ইবনে মাজা হা.৪৩৪০]
অন্য হাদীসে হযরত আবু হুরায়রা রা. এর বর্ণনায় আছে, যে ব্যাক্তি সাত বার বলে আমি আল্লাহ পাকের নিকট জান্নাত কামনা করি। তখন জান্নাত বলে হে আল্লাহ তাকে জান্নাত প্রদান করুন। [আবু নাঈম১/৯৮]
হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে একটি হাদীস বর্ণিত আছে যে, এতে নবী করীম সা. এরশাদ করেন , আল্লাহর নিকট প্রচুর পরিমানে জান্নাত কামনা করো এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তি চাও। কেননা জান্নাত জাহান্নাম উভয়েই শাফায়াত করে। এবং তাদের শাফায়াত কবুল করা হবে নিঃসন্দেহে। কোন বান্দা যখন আল্লাহর নিকট বার বার জান্নাত চাইতে থাকে তখন জান্নাত বলে হে পরওয়ারদিগার আপনার নিকট আমাকে কামনা করা হয়েছে। আপনি তাকে আমার মধ্যে অবস্থানের সুযোগ দিন। এ রকম জাহান্নামও বলে। [নেহায়া, ইবনে কাছীর, ২/৫০১]

আল্লাহর ব্যবসার পুঁজি খুবই মূল্যবান

হযরত আবু হুরায়রা রা. মারফু বর্ণনায় বলেন, নবী পাক সা. এরশাদ ফরমান: যে ব্যাক্তি পরকালীন মানযিলসমূহকে ভয় করে, সে ব্যাক্তি যেন ইবাদত করে পরকালে ভ্রমণ করে। যে ব্যাক্তি রাতে ভ্রমণ করে সে তার গন্তব্য স্থানে চলে যায়, শুনে রেখো আল্লাহ পাকের ব্যবসার পুঁজি অনেক মূল্যবান। আরো শুনে রেআমল যে, আল্লাহ পাকের ব্যবসার মালামাল হলো জান্নাত। [আবু নাঈম]

সাধ্যমত জান্নাত অন্বেষণ কর

হযরত কালীব ইবনে জারীর রা. বলেন, আমি নবী সা. কে বলতে শুনেছি, নিজেদের সাধ্যমত সাধনা করে জান্নাত অন্বেষণ কর এবং যথাসাধ্য চেষ্টা করে জাহান্নাম থেকে বেচে থাক। কেননা জান্নাতের অন্বেষণকারীর ঘুমানো উচিত নয়। আর দোযখ থেকে আত্মরক্ষাকারীরও শুয়ে থাকা উচিত হবে না। নিঃসন্দেহে আখেরাত আজ অপসন্দনীয় বস্তুর মধ্যে লুকিয়ে আছে। আর দুনিয়া সাধের এবং খাহেশের ডাস্টবিন। সাবধান তোমরা পরকাল থেকে গাফেল থেকোনা। [নেহায়া, ইবনে কাছীর ২/৫০২]

আল্লাহ পাকের সাহায্য চেয়ে জান্নাত কামনা কর
হযরত জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা. বলেন, নবী কারীম সা. ইরশাদ ফরমানÑ আল্লাহ পাকের সাহায্য চেয়ে কেবল জান্নাতই কামনা করো। [ইবনে কাছীর ২/৫০২]
দুটি বড় জিনিসকে ভুলে যেওনা

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রা. নবী করীম সা. এর কাছ থেকে শ্রবণ করেছেন। নবী করীম সা. ইরশাদ ফরমান, তোমরা বৃহৎ দুটি জিনিস ভুলে যেওনা। আমরা জিজ্ঞেস করলাম দুটি বৃহৎ জিনিস কি? ইয়া রাসূলুল্লাহ। হুজুর সা. উত্তর দিলেন জান্নাত ও জাহান্নাম। [তারগীব ও তারহীব ৪/৪৫৭]


হযরত আব্দুল মালেক ইবনে আবু বাশির রা. বর্ণনা করেন, নবী করীম সা. ইরশাদ করছেন, এমন কোন দিন যায়না যে, জান্নাত ও জাহান্নাম উভয়ে প্রশ্ন করেনা। জান্নাত বলে হে আমার প্রতিপালক, হে আমার পরওয়ারদিগার। আমার ফল তৈরি, আমার নহর সমূহ প্রবাহমান, আমি আমার আশা পূর্ণ করতে চাই। সুতরাং আমার মধ্যে যারা বসবাস করবে তাদেরকে অতি সত্তর পাঠিয়ে দাও।জান্নাত জাহান্নামের দাবী


কুলসুম ইবনে আয়াজের ওয়াজ

ইমাম ইবনে কাসীর রহ. বলেন, হযরত কুলসুম ইবনে আয়াজ কুসাইরী রহ. বাদশা হিশাম ইবনে আবদুল মালিকের শাসনামলে দামেশকের মিম্বরে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, যে ব্যাক্তি তার মনের খাহেশ ছেড়ে আল্লাহ পাকের বিধনাবলির মর্যাদা দেয়, আল্লাহ পাকও তাকে মর্যাদা দিয়ে থাকেন। আল্লাহ পাক সে বান্দার উপর করুণা করে, যে ব্যাক্তি আল্লাহ তাআলার নেয়ামতের সাথে তার আনুগত্যের সাহায্য কামনা করে। আর এই নেয়ামতের মাধ্যমে পাপের সাহায্য গ্রহণ না করে। কেননা জান্নাতি লোকের এমন কোন সময় আসবেনা যে, এতে নেয়ামতের আধিক্য বৃদ্ধি পায় না। ইহা কিভাবে বৃদ্ধি পায় তা নেয়ামতপ্রাপ্ত ব্যক্তি টেরও পায়না। তেমনিভাবে শাস্তিপ্রাপ্ত ব্যাক্তির এমন সময় আসেনা যে সেও শাস্তিকে নতুন মনে করেনা, আর সেও তা জানেনা।
আকাবিরদেরদের আমল

হাফিজ ইবনে কায়্যিম রহ. বলেন মহান পূর্বসূরিগণ আল্লাহর নিকট জান্নাত কামনা করতেন না। বরং তারা বলতেন যে, আমাদের জন্য তাই যথেষ্ট যে, তিনি আমাদেরকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিন।
মনের অপছন্দের কাজ কর্মের আড়ালে রয়েছে জান্নাত

হযরত আনাস ইবনে মালেক রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সা. ইরশাদ করেন, জান্নাত নফসের অপছন্দনীয় বস্তুর অন্তরালে রাখা হয়েছে, আর জাহান্নাম প্রবৃত্তির পছন্দের অন্তরালে অদৃশ্য রাখা হয়েছে।
হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সা. ইরশাদ করেন- আল্লাহ তাআলা যখন জান্নাত ও জাহান্নাম সৃষ্টি করলেন তখন হযরত জিবরাঈল আ. কে প্রেরণ করে বলেন যে, তুমি জান্নাত দেখ এবং এর অধিবসীদের জন্য যা কিছু সৃষ্টি করা হয়েছে তাও লক্ষ্য কর।
তখন জিবরাঈল আ. আগমন করলেন এবং জান্নাত দেখলেন, এর অধিবাসীদের জন্য যা সৃষ্টি করা হয়েছে তাও দেখলেন। তারপর তিনি আল্লাহ তাআলার নিকট ফিরে গিয়ে নিবেদন করলেন, আপনার শ্রেষ্ঠত্বের কসম, যে ব্যাক্তি জান্নাতের কথা শুনবে সেই এতে প্রবেশ করতে চাইবে।
আল্লাহ তাআলা তখন জান্নাতকে হুকুম করলেন তুমি সে অপছন্দনীয় কর্মসমূহের মধ্যে অদৃশ্য হয়ে যাও। আল্লাহ তাআলা হযরত জিবরাঈল আ. কে আবার বললেন, এখন আবার যাও এবং দেখ আর এর মধ্যে বসবাসকারীদের জন্য যা কিছু তৈরি করা হয়েছে সেগুলোও দেখ। হুজুর সা. বলেন, হযরত জিবরাঈল আ. আবার গেলেন এবং দেখলেন যে, অপছন্দনীয় কাজগুলোর মধ্যে ইহা ডুবে আছে। তিনি ফেরত এসে বললেন, আপনার মহত্ত্বের কসম আমি ভয় করছি যে, এতে কেউই প্রবেশ করতে পারবেনা। এবার আল্লাহ তাআলা আবার তাকে জাহান্নামের দিকে যেতে এবং তা দেখতে বললেন, আর আল্লাহ তাআলা জাহান্নামীদের জন্য যা কিছু তৈরি করেছি তাও দেখতে বললেন।
হযরত জিবরাঈল আ. জাহান্নামিদের জন্য যা কিছু তৈরি করা হয়েছে সবই দেখলেন, এতে তিনি এমন বস্তুও দেখলেন যে এর একটি অংশ অপর অংশের মধ্যে চড়ে বসেছিল। জিবরাঈল আ. ফেরত এসে বললেন, আপনার শেষ্ঠত্বের কসম, যে ব্যাক্তি এর কথা শ্রবণ করবে সে এতে প্রবেশ করতে চাইবেনা। আল্লাহ পাকের আদেশে মনের ইচ্ছাও প্রবৃত্তির মধ্যে অদৃশ্য হয়ে গেল জাহান্নাম। তারপর জিবরাঈল আ. যখন জাহান্নামের দিকে আবার ফিরে দেখলেন তখন আরজ করলেন, আপনার শ্রেষ্ঠত্বের কসম আমার পুরাপুরি ভয় হচ্ছে যে, এ থেকে কেউই মুক্তি পাবে না। সকলেই এতে প্রবেশ করবে।

প্রেম-ভালোবাসা আসলে কি? প্রেম করা কি হারাম?



১. প্রেম ভালোবাসা হয় – একজন আরেকজনের সাথে সরাসরি/ফোনে/ফেইসবুকে কথা বলে, দেখাসাক্ষাৎ করে। ইসলাম এইধরণের দেখা সাক্ষাত ও কথা বলা, যেখানে কামনা-বাসনা মিশ্রিত থাকে সেটাকে “যিনা” সাব্যস্ত করে হারাম করে দিয়েছে।দিয়েছে।

যিনা কি? 

রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ “কোন বেগানা নারীর প্রতি দৃষ্টি দেওয়া চোখের যিনা, অশ্লীল কথাবার্তা বলা জিহ্বার যিনা, অবৈধভাবে কাউকে স্পর্শ করা হাতের যিনা, ব্যাভিচারের উদ্দেশ্যে হেঁটে যাওয়া পায়ের যিনা, খারাপ কথা শোনা কানের যিনা আর যিনার কল্পণা করা ও আকাংখা করা মনের যিনা। অতঃপর লজ্জাস্থান একে পূর্ণতা দেয় অথবা অসম্পূর্ণ রেখে দেয়”।

সহীহ আল-বুখারী, সহীহ আল-মুসলিম, সুনানে আবু দাউদ, সুনানে আন-নাসায়ী। সমস্ত প্রকার যিনা হারামঃ আল্লাহ তাআ’লা যিনাকে হারাম ঘোষণা করে বলেনঃ “তোমরা যিনার কাছেও যাবে না। কেননা তা অত্যন্ত নির্লজ্জ এবং খারাপ কাজ"। সূরা বনী ইসরাঈলঃ ৩২। রসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেছেনঃ "কোন পুরুষ যখন একজন মহিলার সাথে নির্জনে মিলিত হয়, তখন তাদের তৃতীয় সঙ্গী হয় শয়তান।" তিরমিযী, মিশকাত। ২. বেগানা নারীকে স্পর্শ করা কতো বড়ো পাপ!! "নিশ্চয়ই তোমাদের কারো মাথায় লোহার পেরেক ঠুকে দেয়া ঐ মহিলাকে স্পর্শ করা থেকে অনেক ভাল, যে তার জন্য হালাল নয়।" তাবারানী, ছহীহুল জামে হাদীস -৪৯২১। ৩. আর এইরকম সম্পর্কের একটা পর্যায়ে (আগে হোক বা পরে) নারী পুরুষে যিনা-ব্যভিচারে জড়িয়ে পড়ে।

অবিবাহিত জেনাকারী ও জেনাকারিনীদের দুনিয়াবী শাস্তিঃ “ব্যভিচারিণী নারী ব্যভিচারী পুরুষ; তাদের প্রত্যেককে একশ করে বেত্রাঘাত কর। আল্লাহর বিধান কার্যকর কারণে তাদের প্রতি যেন তোমাদের মনে দয়ার উদ্রেক না হয়, যদি তোমরা আল্লাহর প্রতি ও পরকালের প্রতি বিশ্বাসী হয়ে থাক। মুসলমানদের একটি দল যেন তাদের শাস্তি প্রত্যক্ষ করে”। সুরা আন-নূর, আয়াত ২। দুনিয়ার জীবনে বিবাহিত জেনাকারীদের চেয়ে অবিবাহিত জেনাকারীদের শাস্তি কম করা হয়েছে। কিন্তু তোওবা করে ফিরে না আসলে পরকালে দুই দলের জন্যই রয়েছে কঠোর শাস্তি।

তাদের উলংগ করে বড় একটা কড়াইয়ে পুড়ানো হবে। কিছুক্ষণ পরপর সেই আগুনের মাত্রা বাড়িয়ে দেওয়া হবে, আর জেনাকারীরা ছিটকে বের হয়ে আসতে চাইবে আগুন থেকে। কিন্তু তারা পালিয়ে যেতে পারবেনা, আবার তাদেরকে আগুনের মধ্যখানে নিয়ে আবার পুড়ানো হবে। জেনাকারী নারীর লজ্জাস্থানের দূর্গন্ধে পুরো জাহান্নামবাসীর জীবন অতিষ্ট হয়ে যাবে। সেটা তাদের জন্য অতিরিক্ত আরেকটা শাস্তি হবে। (নাউযুবিল্লাহ) জেনাকারী ও জেনাকারীদের তোওবা করাই উচিত। অবিবাহিত জেনাকারী ও জেনাকারিনীদের দুনিয়াবী শাস্তিঃ বিবাহিত নারী বা পুরুষ যদি জিনার অপরাধে জড়িয়ে পড়ে, আর তা ইসলামী বিচারালয়ে প্রমানিত হয় অথবা সে চারবার নিজে থেকেই স্বীকারোক্তি দেয় (শাস্তি মাথে পেতে নেওয়ার জন্য) – (২টার যেকোনো একটা হলেই শাস্তি প্রযোজ্য হবে) তাহলে তার শাস্তি হচ্ছে তাকে "রজম" বা পাথর ছুঁড়ে হত্যা করা হবেঃ জাবির বিন আব্দুল্লাহ আল আনসারি (রাঃ) হতে বর্ণিত: বনি আসলাম গোত্রের এক লোক রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর কাছে এসে জানালো যে সে জিনা করেছে এবং নিজের বিরূদ্ধে চার বার সাক্ষ্য দিল। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) তাকে "রজম" বা প্রস্তরাঘাতে মৃত্যুর নির্দেশ দিলেন, কারণ সে বিবাহিত ছিল। সহীহ বুখারি ভলিউম ৮, বুক ৮২, নম্বর ৮০৫।
রজম প্রয়োগের এই ঘটনাটি বুখারির ৮টা, মুসলিমের ৯টা, আবু দাউদের ৪টা, মুয়াত্তা ইমাম মালিকের ২ টা সহ মোট ২৩ টা সহীহ হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। 

বিঃদ্রঃ জেনাকারী নারী বা পুরুষের এমন ধারণা পোষণ করা মোটেই ঠিকনা, আমাদের দেশে এই নিয়ম নাই - তাই আপাতত কিছু আনন্দ করে নেয়া যাক। দুনিয়াতে শাস্তি না হলে পরকালের শাস্তি আরো ভয়ংকর। জাহান্নামের আগুনের কড়াইয়ে পুড়া কি ভয়ংকর হতে পারে? ৫ মিনিট চুলার আগুনে ছোট্ট একটা আঙ্গুল দিয়েই দেখতে পারেন সহ্য করতে পারেন কিনা? কি কঠিন অবস্থা হবে আগুনের কড়াইয়ে যখন উলংগ করে পুড়ানো হবে যার আগুন দুনিয়ার আগুনের ৭০ গুণ আর যেই আগুন কখনো কমবেনা, না শাস্তি কমানো হবে! (নাউযুবিল্লাহি মিন যালিক) যিনাকারীদের পরকালীন শাস্তিঃ রাসুল (সাঃ) বলেছেনঃ “আমি স্বপ্নে একটি চুলা দেখতে পেলাম যার উপরের অংশ ছিল চাপা আর নিচের অংশ ছিল প্রশস্ত আর সেখানে আগুন উত্তপ্ত হচ্ছিল, ভিতরে নারী পুরুষরা চিল্লাচিল্লি করছিল।

আগুনের শিখা উপরে আসলে তারা উপরে উঠছে, আবার আগুন স্তিমিত হলে তারা নিচে যাচ্ছিল, সর্বদা তাদের এ অবস্থা চলছিল, আমি জিবরীল আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞেস করলামঃ এরা কারা? জিবরীল আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললঃ তারা হল, অবৈধ যৌনচারকারী নারী ও পুরুষ। সহীহ আল-বুখারী। কথিত প্রেমিক আর প্রেমিকাদের একে অন্যের সাথে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করা উচিত। পরকালে ভালোবাসা নামক শোয়তানী ধোঁকা থাকবেনা – শুধুই আগুন। আল্লাহর কসম! তখন এই প্রেমিক প্রেমিকারা একজন আরেকজনের শত্রু হয়ে যায়।

আর দুনিয়ার জীবনে একজন আরেকজনকে জেনা ব্যভিচারে বন্ধু হিসাবে নেওয়ার জন্য হাত কামড়িয়ে আফসোস করবে। “জালেম সেদিন আপন হস্তদ্বয় দংশন করতে করতে বলবে, হায় আফসোস! আমি যদি রসূলের পথ অবলম্বন করতাম। হায় আমার দূর্ভাগ্য! আমি যদি অমুককে বন্ধু হিসেবে না নিতাম। আমার কাছে উপদেশ আসার পর সে আমাকে তা থেকে পথভ্রষ্ট করেছিল”। সুরা আল-ফুরকান, আয়াত ২৭-২৯। আল্লাহ আমাদের ও আমাদের পরিবারকে নিরাপদ রাখুন, আমিন।

জেনে নিন, নামাজে মনোযোগ না থাকার কারণ গুলো


ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের অন্যতম একটি । সালাত বান্দাকে আল্লাহর সবচেয়ে নিকটে নিয়ে যেতে সাহায্য করে । হাদীসে বলা হয়েছে বান্দা যখন সিজদায় যায় তখন সে আল্লাহর সবচেয়ে প্রিয় হয় । কোরআনে প্রায় ৮২ বার আল্লাহ নামাজ আদায় করার কথা বলেছেন । হাদীসে প্রিয় নবী (সঃ) অনেক তাগিদ দিয়ছেন এই সালাতের ব্যাপারে । সালাত হল এমন এক ইবাদত যা মুসলিম ও অমুসলিম এর মাঝে পার্থক্য করে দেয় । নামাজ মানুষকে সকল প্রকার পাপ কর্ম থেকে দূরে রাখে ।
এই নামাজেই কেবল মাত্র মানুষের অন্তরকে শান্তি দিতে পারে । কিন্তু নামাজ আদায় করতে গিয়ে আমাদের মনোযোগ থাকেনা নামজে । কল্পনার জগতে মানুষ বড়ই বেপরোয়া । তাই ইচ্ছা করেও ধরে রাখতে পারে না মনোযোগ নামাজে ।
তাই কেন নামাজে মন থাকে না তা আমার কিছু বাস্তব সম্মত কারণ তুলে ধরছি
সালতে এত সব কল্পনা কেন
অনেক কঠিন বিষয়ের সমাধান খুব সহজে চলে আসে নামাজে দ্বাড়ালে । অনেক জটিল হিসাব খুব সহজে মিলে যায়। এসবের কারণ হতে পারে নিচের যে কোন একটি বা একাধিক,
১। সালত কে নিছক ধর্মীয় অনুষ্ঠান মনে করাঃ কেনল মাত্র কিছু মুখস্ত সুরা, দোয়া, মন্ত্রের মত পাঠ করা । তারপর রুকু করা সিজদাহ করা ,এভাবে নামাজ শেষ করা । পুরো বিষয়টি কেমন যেন একটা যান্ত্রিকতা ও অনুষ্ঠানিকতা । সালতের সাথে অন্তরের একটা যে যোগসাজস আছে তা অনেকেরই উপলব্ধি হয় না ।
২। সালতকে যথাযথ মুল্যানয় না করাঃ দৈনদ্দিন আর পাঁচ টা কাজের মত মনে করা এই পবিত্র সালাতকে । অথচ দুনিয়া আখেরাতে কামিয়াবির একমাত্র উপাই।

৪। অর্থ না বোঝাঃ সালাত যেহেতু পুরোটাই আরবি ভাষায় তাই এর অর্থ আমরা সহজেই বুঝি না । আর এই অর্থ না বোঝার ফলে আমাদের মুখস্ত সুরা গুলো মুখে বলতে থাকি কিন্তু অলস অন্তর অন্য চিন্তায় ব্যাস্ত থাকে । আর যদি বোঝা যেত তাহলে অন্তর সেটা নিয়ে ভাবতো।৩। পাপ কাজে ডুবে থাকাঃ নিয়মিত সালাত আদায় করা সত্তেও অনেক মুসল্লি আছেন যারা প্রকাশ্য ও নিয়মিত পাপে ডুবে থাকেন । মানুষের স্বভাবত বিশিষ্ট যে সে সব সময় যা করে তা তার সবসময় মনে থাকে । তাইতো নামাজে সিনেমার কোন অংশ মনে আশাটা অসম্ভব নয় । অনেকে আবার নাটক ,সিনেমার , মাঝে মাঝে বিরতি বা এড দেয়ার সময় খুব তারাতারি করে নামাজ সেরে ফেলেন।
৫।আখিরাতের তুলনায় দুনিয়ার বেশী মুল্যায়ন করাঃ আজকাল সবাই সাথে সাথে ফিড ব্যাক পাওয়ার চিন্তা বেশী করে । তাইতো নামাজের অয়াক্তে অন্য বিষয় নিয়ে ব্যাস্ত থাকে নামাজ কে ভুলে। আর বিশেষ করে উপার্জনের ব্যাপারে ইসলামের তোয়াক্কা না করা।
৬।জায়নামাজ ও মসজিদে নকশা-কারুকার্য করাঃ বিশেষত নামজের জায়গায় এসব কারুকার্য থাকলে মনোযোগ টা সেই দিকে চলে যায় । যার ফলে নামাজের একাগ্রতা নষ্ট হয় ।
৭। সালতের হুকুম আহকাম ঠিক ভাবে অনুসরন না করা । রাসুল(সঃ) যে ভাবে নামাজের নিয়ম দেখিয়েছেন তা সঠিক ভাবে না মানা।
৮।শয়তানের প্রভাবঃ যেহেতু সালাত সবচেয়ে বড় ইবাদত তাই এতে শয়তানের প্রভাবও বেশী । শয়তান তার সর্বচ্চ শক্তি দিয়ে বান্দার সালাত নষ্টের কাজে নেমে পরে । কিছু শয়তানের এ ব্যাপারে কাজ ভাগ করে দেয়া থাকে। নামাজ নষ্ট কারী শয়তানের নাম ‘খানযাব’। সালাতে ইদিক ওদিক তাকানো এটাও শয়তানের প্রভাবের ফল।
৯। নিয়মিত কোরআন হাদীস পাঠ না করা । কোরআন হাদিস নিয়মিত পাঠ আমাদের অন্তরকে রাখে পবিত্র।